1. admin@pekuanews24.com : admin-pekuanews24 :
বিজ্ঞপ্তি
আমাদের পেকুয়া নিউজে আপনাকে স্বাগতম । আমাদেরকে সংবাদ পাঠান আপনার পাশে ঘটে যাওয়া যেকেনো ঘটনা । প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে 01719571017 (whatsapp)

১০ আমদানিকারককে শুল্ক গোয়েন্দাদের ‘জেরা

  • প্রকাশিত Monday, November 25, 2019
  • 34 জন পড়েছেন

কারসাজি করে পিয়াজের দাম বাড়ানোর অভিযোগে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের ৪১ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে গতকাল থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিন কাকরাইলের শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে শীর্ষ ১০ আমদানিকারককে জেরা করা হয়েছে। আজ বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে আমদানিকারকদের আমদানি, মজুত ও মূল্যের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন। এদিকে উঠা-নামাসহ টানা দুই মাস ধরে লাগামহীন পিয়াজের দাম। দাম স্থিতিশীল করতে আমদানি শুল্ক মওকুফ, ঋণের সুদ কমানো, জরুরিভিত্তিতে বিমানে আমদানি করাসহ বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। সর্বশেষ আকাশপথে পিয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চার্জ মওকুফ করার ঘোষণা দেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
কিন্তু সব উদ্যোগ ব্যর্থ করে দিয়ে আবারো বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যেটির দাম। গতকাল খুচরা বাজারে আবারো ২৫০ টাকা ছাড়িয়েছে।
পিয়াজের দাম আবারো বাড়ায় গতকাল পিয়াজ আমদানি ও মূল্যবৃদ্ধির অনুসন্ধানে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর শুনানি গ্রহণ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। মোট ৪১ পিয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের শুনানি গ্রহণ করা হবে।
শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ১০ আমদানিকারক গত আগস্ট থেকে ১৮ই নভেম্বর পর্যন্ত ১৫৯ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৪ হাজার ৩১ টন পিয়াজ আমদানি করেছেন। সবচেয়ে বেশি আমদানি করেছে চাঁপাই নবাবগঞ্জের টিএম এন্টারপ্রাইজ। এ আমদানিকারক ৩৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা মূল্যে ৯ হাজার ২০ টন পিয়াজ আমদানি করেছে।
শুল্ক গোয়েন্দারা জানান, চাঁপাই নবাবগঞ্জের একতা শাসা ভাণ্ডার ১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা খরচ করে ৩ হাজার ৩৯৪ টন, এম/এস সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ ১৩ কোটি ৬ লাখ টাকা খরচ করে ৩ হাজার ৪৪৮ টন, নূর এন্টারপ্রাইজ ১৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৪৩৮ টন, এম/এস আরএম অ্যাগ্রো ৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৭০০ টন, টিএম পৃষ্ঠা ১১ কলাম ১
এন্টারপ্রাইজ ৩৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ হাজার ২০ টন এবং বিএইচ ট্রেডিং অ্যান্ড কোম্পানি ১৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৭৪৬.৫০ টন, রাজশাহীর এম/এস ফুল মোহাম্মদ ট্রেডার্স ১৪ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৮৫ টন, সাতক্ষীরার এম/এস দীপা এন্টারপ্রাইজ প্রোপার্টিজ (প্রো. সুকুমার দাস) ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ হাজার ৬৯৩ টন, নওগাঁর জগদীশ চন্দ্র রায় ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৫৭৪.৫০ টন এবং বগুড়ার এম/এস সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ ৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৯৩২ টন পিয়াজ আমদানি করেছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পিয়াজের মূল্য লাগামহীন হয়ে গেছে। তাই মূল্য বৃদ্ধির পেছনে কি কারণ সেটি বের করার জন্য সারা দেশের শীর্ষ আমদানিকারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গত দুই মাসে তারা কি পরিমাণ পিয়াজ কি দামে, কোন কোন দেশ থেকে আমদানি করেছেন। আমদানি খরচ কত পড়েছে। আমদানি খরচের সঙ্গে যাবতীয় সকল খরচ বাদ দিয়ে বাজারে এসব পিয়াজের দাম কত হতে পারে। এছাড়া আমদানি করা সকল পিয়াজ তারা বিক্রি করেছেন কিনা। নাকি তারা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে মজুত করে পিয়াজের সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছেন। এ সমস্ত বিষয় নিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শুল্ক গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, আমদানিকারকদের কাছে ঠিক কি পরিমাণ পিয়াজ মজুত আছে তা আজকের মধ্যে জানা যাবে। সাড়ে তিন মাসে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮০৬.৪৭ টন পিয়াজ আমদানি করা সত্ত্বেও কেন পিয়াজের বাজার এত চড়া তা খতিয়ে দেখবে শুল্ক গোয়েন্দারা। এছাড়া কারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে লাগামহীন বাজার করে রেখেছে তাদেরকেও চিহ্নিত করা হবে।
এদিকে, শুল্ক গোয়েন্দাদের তলবে জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হওয়ার কথা ছিল ১৪ আমদানিকারককে। এদের মধ্যে ৪ জন অনুপস্থিত ছিলেন।
যারা হাজির হয়েছেন তারা জানিয়েছেন, তাদের কাছে আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আমদানি করার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিলো। এছাড়া পিয়াজ মজুত আছে কিনা এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা জানিয়েছেন, যে দামে আমদানি করা হয়েছে তার থেকে ২ টাকা লাভ ধরে ১ দিনের ভেতরে সমস্ত পিয়াজ বিক্রি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মজুতের কোনো সুযোগ নাই।
আবারও পিয়াজের কেজি ২৫০ টাকা ছাড়িয়েছে: রাজধানীর পাইকারি বাজার ও খুচরা বাজার ঘুরে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, পিয়াজের সরবরাহ খুব কম। সিজন শেষ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাজার বা কৃষকের ঘরে নেই পুরনো দেশি পিয়াজ। দেশি নতুন পিয়াজ বাজারে না আসা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, খুচরা বাজারভেদে পিয়াজের কেজি সর্বশেষ ২৭০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে। পিয়াজ সংকট কাটাতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেয়া হয়। তুরস্ক, মিশর, মিয়ানমার, চীন, পাকিস্তান থেকে আমদানি শুরু হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে কার্গো বিমানে পিয়াজ আমদানি করতে হয়েছে। দ্রুত সময়ে সরকারি উদ্যোগ নেয়ায় কমতে থাকে দাম। ২৭০ টাকা থেকে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ১৬০ টাকা কেজিতে নেমে আসে পিয়াজের দর। কিন্তু আবারও অস্থিতিশীল’ হয়ে উঠছে পিয়াজের বাজার।
এদিকে পিয়াজের সঙ্কটের কারণ কী, রোববার এফবিসিসিআইয়ের এক বৈঠকে তা নিয়ে একমত হতে পারেননি মন্ত্রীসহ সরকারি কর্মকর্তারা। দেশে এখন পিয়াজের মজুত যথেষ্ট আছে বলেও দাবি করেছেন তাদের কেউ কেউ, অন্য দিকে মজুতের ঘাটতিই যে সঙ্কটের কারণ, সেই কথাও এসেছে।
বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের (বিটিসি) সদস্য আবু রায়হান আল বেরুনি বলেন, পিয়াজের আমদানি ও মজুত স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ঘাটতি নেই।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বাজারে কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি নেই। আপনারা পিয়াজের কথা বলেন, বাজারে আছে তো সব। তিনি বলেন, যদি কেউ মজুতদারি করে, অহেতুক দাম বাড়ায়, তাহলে চিহ্নিত করে শান্তি দেয়া হবে।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে দেশি পিয়াজ আবারও ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। রোববারও এই পিয়াজ ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আর সপ্তাহখানেক আগেও এই পিয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে।
পিয়াজ বিক্রেতারা বলেন, সিজন শেষ, নতুন পিয়াজ উঠতে শুরু করেছে। এই সময়ে এমনিতেই দেশি পিয়াজ শেষ হয়ে যায়। আমদানি করা মিসর বা মিয়ানমারের পিয়াজে দেশি পিয়াজের মতো স্বাদ পাওয়া যায় না। ফলে দেশি পিয়াজের চাহিদা বেশি, অথচ সরবরাহ কম। তাই দাম বেড়েছে।
রাজধানীর কাওরান বাজার ও শান্তিনগর বাজার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশি পিয়াজ ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মিসরের পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়।
গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আড়তে দেখা গেছে, কেজিপ্রতি দেশি পিয়াজ ২২০ থেকে ২৪০, মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পিয়াজ ১৯০ থেকে ২০০ বিক্রি হয়েছে। এছাড়া চীন থেকে আমদানি করা পিয়াজ ১৩০ থেকে ১৪০, মিশর থেকে আমদানি করা পিয়াজ ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়।
স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ দামে পিয়াজ কিনতে বাধ্য হলেও ক্ষোভ প্রকাশের ভাষা নেই ক্রেতাদের। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি পিয়াজের সিন্ডিকেট না ভাঙ্গতে পারলে মুক্তি নেই খুচরা ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের।
কারওয়ান বাজারে পিয়াজের পাইকারি বিক্রেতা হৃদয় জানান, আগের আমদানি করা পিয়াজ একটু কম দামে পেলেও বাজারে নতুন আসা দেশি পিয়াজের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। পাইকারি রেটে ২২০ টাকা দরে বিক্রি করছি। যা খুচরা বাজারে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চীন থেকে আমদানি করা পিয়াজ ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি পিয়াজের মতো দেখতে মিয়ানমার থেকে আসা পিয়াজ ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, গত দুদিন ধরে তার আড়তে কোনো পিয়াজের জোগান নেই। তিনি বলেন, এর আগের সপ্তাহে কিছু পিয়াজ ছিল। কিন্তু সেগুলো বিক্রি হয়েছে প্রতিদিন এক বস্তা কিংবা দুই বস্তা করে, যদিও আগে প্রতিদিন ৫০ বস্তা থেকে ১০০ বস্তা পর্যন্ত পিয়াজ বিক্রি হত।
মহাখালীর কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে থাকা ৮ থেকে ১০ মুদি দোকানের মধ্যে দেশি জাতের পিয়াজ রয়েছে কেবল একটি দোকানে। দাম চাওয়া হচ্ছে প্রতি কেজি ২৬০ টাকা। এছাড়া অনেক দোকানে পিয়াজ বিক্রির স্থানটি শূন্য পড়ে আছে। কিছু কিছু দোকানে মিশর-তুরস্কের বড় আকারের পিয়াজ রয়েছে। দাম চাওয়া হচ্ছে প্রতিকেজি ১৩০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা।
এদিকে, বাজারে গাছসহ দেশি পিয়াজের দামও বেশ চড়া। এসব পিয়াজ ১০০ টাকা থেকে এখন তা বেড়ে বাজার ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় পিয়াজ বাজারে কম আসায় দাম বাড়তি। ঢাকায় পিয়াজের প্রধান পাইকারি কেন্দ্র শ্যামবাজারের আমানত ভাণ্ডারের বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক খান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তার আড়তেও পিয়াজের যোগান নেই। গ্রামের হাটগুলোতে প্রতি মণ পিয়াজের দাম চাওয়া হচ্ছে ৮ হাজার টাকা থেকে ৯ হাজার টাকার মধ্যে। তিনি বলেন, হাটে একজন কৃষক এক বস্তা পিয়াজ নিয়ে আসলে তাকে ৮/১০ জন ব্যাপারী ঘিরে ধরে। তাহলে দাম না বাড়িয়ে উপায় কী?

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
এই পোর্টালের কেনো লেখা কিংবা কোনো চিত্র বিনা অনুমতিতে ব্যাবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design BY rubel network