1. admin@pekuanews24.com : admin-pekuanews :
  2. mdjalalpekua@gmail.com : jalal uddin : jalal uddin
শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন

পেকুয়ার উজানটিয়ায় ইউপি নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ—ব্যালট পেপার উদ্ধার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১

পেকুয়া প্রতিনিধি;

কক্সবাজারের পেকুয়ায় তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন গত ২৮শে নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় মধ্যম উজানটিয়া ভেলুয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আলমিরায় একদিন পরে নির্বাচনের ব্যালট পেপার পাওয়া যায়।

এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমদ হোসেন বলেন,আজ সকালে বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী আসছে। তাই আমি অফিস খুলে দিয়েছি। বিদ্যালয় কক্ষ গুলো পরিস্কার করার সময় অফিসে আসবাপত্র রাখার স্টিলের আলমিরা খুলে দেখি নির্বাচনি ব্যালট পেপার দেখতে পাই।
এ সময় বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য জিয়াউল হক সিকদার অফিসে প্রবেশ করলে সে ব্যালট পেপার গুলি দেখতে পায়। তখন সে বিভিন্ন জনকে মোবাইলে সংবাদ দেন। এর কিছুক্ষণ পর দেখি সাংবাদিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধি সদস্য জিয়াউল হক বলেন, আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সব কেন্দ্রে অর্থাৎ ৯ টিই কেন্দ্রেই ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও ব্যালট জালিয়াতি হয়েছে। এই রকম নির্বাচন আমরা কোন ভাবে মেনে নিতে পারছিনা। আমরা এই ভোট পুনঃগণনা ও যাচাই বাচাইয়ের দাবি জানাছি।
মেম্বার প্রার্থী জিয়াউল হক সিকদার আরো বলেন, আমার ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রে কারচুপি হয়েছে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের জমির উদ্দিনের সাথে আঁতাত করে ভোট কেন্দ্রে আমার কর্মীদেরকে ভোট দিতে বাঁধা গ্রস্ত করেছে। নির্বাচনে কালো টাকার কাছে বিক্রি হয়েছে প্রিজাইডিং অফিসার মহেশখালী কলেজের প্রভাষক মোঃ বেলাল হোছাইন।
উজানটিয়ার নৌকার মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভোটের আগে আমি অসমর্থিত সংবাদ পেয়েছিলাম কিছু ব্যালট পেপার রাতে প্রিসাইডিং এর হাতে পৌঁছাবে। এনিয়ে উজানটিয়া এলাকার সাংবাদিক, প্রতিদ্বন্ধি চশমা প্রতীকের প্রার্থী তোফাজ্জল করিম ও প্রশাসনের কয়েকজন লোক টইটংয়ের এক আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় রূদ্ধদার বৈঠক করেছিল। আমি এ সংবাদকে অবিশ্বাসযোগ্য বলে উড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ তার বাস্তব প্রমাণ মিলল। উদ্ধার হওয়া ব্যালট আর সকালে দেয়া ব্যালট হুবহু তবে সিরিয়াল নাম্বারের অমিল। আমার সন্দেহ বাক্সের ভিতরের ব্যালট পেপার পুনঃ যাচাই বাচাই করা হলে কারচুপির বিষয়টা প্রমাণিত হবে।অন্যান্য ৯ ওয়ার্ডের প্রার্থীদের দাবীও ভোট পুনঃগণনা ও যাচাই-বাচাই করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে দায়ীত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোঃ বেলাল হোছাইন এর ব্যবহৃত মুটোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
উজানটিয়ার রিটার্নীং কর্মকর্তা আমি আনোয়ার এর কাছে জানতে চাইলে বলেন, ব্যালট উদ্ধারের বিষয়টি জেনেছি।
তদন্তের আগে বিস্তারিত বলতে পারছি না।
#########################
পেকুয়ায় নৌকা পরাজয়ের নেপথ্যে, দায়ী সাংসদ ও আ’লীগ

পেকুয়া প্রতিনিধি;

কক্সসবাজারের পেকুয়ায় ৩য় ধাপের নির্বাচনে নৌকা পরাজয়ের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কমবেশি দায়ী আওয়ামী লীগের সাংসদ এবং শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতারা এমন অভিমত সচেতনমহলসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা নৌকাকে সাধারণ জনতার কাছে গ্রহণযোগ্য করে প্রতিষ্টিত করার জন্য সংসদে বিল পাস করে মাঠ পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকাকে নিশ্চিত করেন। এর আলোকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মনোনয়ন বোর্ড গঠন করেন। মনোনয়ন বোর্ড ব্যাপক যাচাই-বাচাই করে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ করে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার জয় নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের শীর্ষ নেতাদের নেতীবাচক ভুমিকার কারণে পেকুয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নৌকা পরাজিত হয়। এ পরাজয়ের পর দলের মনোনীত প্রার্থীকে নিয়ে কটুক্তিসহ আস্ফালন করতে দেখা যায় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
নির্বাচনকালীন সময়ে মাঠ জরিপে নৌকার গণ-জোয়ার পরিলক্ষিত হলেও ভোটের দিন নৌকাকে পরাজিত হতে হয় শুধুমাত্র শীর্ষ নেতাদের হঠকারীমুলক আচরণে। সদ্য অনুষ্টিত নির্বাচনে পেকুয়ায় ৬ ইউনিয়নের মধ্যে রাজাখালীতে নৌকার প্রার্থী জয়ী হয় এবং বারবাকিয়ায় ৯ ওয়ার্ডের মধ্যে ঘোষিত ৮ ওয়ার্ডের ফলাফলে নৌকা ৩০৪ ভোটে এগিয়ে আছে। একটি কেন্দ্রে গোলযোগের কারণে স্থগিত হওয়ায় অমীমাংসিত থেকে যায় ফলাফল। জয় পাওয়া ইউনিয়ন রাজাখালীতে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করায় বিপুল ব্যবধানে নৌকা প্রতীক জয়লাভ করে। অরদিকে পরাজিত হয় উজানটিয়া,শীলখালী, মগনামা ও পেকুয়ায় নৌকার প্রার্থীরা পরাজিত হয়।
সরেজমিন গিয়ে উজানটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আকতার আহমদের কাছে পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছি। কিন্তু আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নেতিবাচক ভুমিকার কারণে এমনকি তাদের চাহিত মোতাবেক নজরানা না পেলে বারবার পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীদের হারিয়ে দেয়। আমরা এও দেখেছি বিরোধী দলের প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিজদলের প্রার্থীকে অতলসাগরে ছুঁড়ে মারতেও দ্বিধাবোধ করেন না তারা।
উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি জিয়াবুল হক জিকু অভিযোগ করে জানান, স্বাধীনতার ৪০ বছর পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় দলীয় সাংসদ পেয়ে নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু বিধিবাম দলীয় সাংসদ এখন আমাদের গলার কাঁটা হয়ে বিধছে বারবার। মাননীয় সাংসদের কাছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোন স্থান নাই। এখন দলে বি এন পি-জামাতের লোকদের অনুপ্রবেশ করিয়ে নিজস্ব বলয় তৈরির পাশাপাশি দলকে বিভক্ত করে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। যেকোন সময় দলীয় কোন্দল সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। নির্বাচনের সময় তিনি নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দিয়ে প্রতিটা ওয়ার্ডের নেতাদের ও অনুপ্রবেশকারীদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা দিয়ে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে ষোলআনা পুরণ করে নেন। এভাবে উজানটিয়া,শীলখালী, রাজাখালী ও পেকুয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন। সবকজন বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান সাংসদ জাফর আলমের অনুসারী বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
উজানটিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হোছন জানান, দলীয় প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার থেকে শুরু করে ভোটের দিন পর্যন্ত হুমকি দিয়ে আসছিল এমপি’র আস্তাভাজন লোকেরা যাতে নৌকার পক্ষে কাজ না করার জন্য। এরপরেও জীবনের মায়া ত্যাগ করে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার আশাকে বাস্তবায়ন করার জন্য। নির্বাচন চলাকালীন উজানটিয়া ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ জামালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের বারবার ধর্ণা দিয়েছি তারাসহ নেতাকর্মীদেরকে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য কিন্তু তারা কাজ তো করেনি বরং বিদ্রোহী প্রাথীকে জেতানোর জন্য মরিয়া হয়ে কাজ করে নৌকার সর্বনাশ করেছে। আমরা এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে জেলা নেতৃবৃন্দসহ বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও দলের সভানেত্রী বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ আবুল কাশেম বলেন, দলকে ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি স্থানীয় এক শীর্ষনেতার হঠকারী আচরণের কারণে।
মূখোশধারী জনপ্রতিনিধি ও বর্ণচোরা নেতাকর্মীদের দল থেকে বিতাড়িত করা না হলে আগামীতে দল আরো বিপদজনক পর্যায়ে চলে যাবে।
নৌকার প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাননীয় সাংসদের পছন্দের লোকদেরকে মনোনয়ন না দেয়ায় তিনি নৌকার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়ে নৌকাকে পরাজিত করেছে। তিনি প্রশাসনকে মোটা অংকের টাকায় প্রভাবিত করে এমনকি বাহির থেকে ব্যালট ছাপিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকদের মাধ্যমে ব্যালট বাক্সে ঢুকিয়ে দেয়। যাতে করে নৌকা পরাজিত হয়।
চকরিয়া-পেকুয়ার সাংসদ জাফর আলমের কাছে জানতে ব্যবহৃত মুটোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করেও সংযোগ না দেয়ায় বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন........

© All rights reserved © 2020 Pekuanews24.com