1. admin@pekuanews24.com : admin-pekuanews :
  2. mdjalalpekua@gmail.com : jalal uddin : jalal uddin
রবিবার, ১৫ মে ২০২২, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পেকুয়ায় ৪০ গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারকে ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর পেকুয়ায় বিপুল পরিমাণ জালনোটসহ মুলহোতা শফি আটক পেকুয়ায় ২ সন্তানের জননীর রহস্যজনক আত্মহত্যা! সাংবাদিক ছফওয়ানুল করিমের উপর সন্ত্রাসী হামলার ৩ দিন পর তার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা! উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের পেকুয়া ইফতার মাহফিল সম্পন্ন পেকুয়ায় মামলার সাক্ষী দেয়ায় ব্যবসায়ীর বসতবাড়িতে হামলা পেকুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ছফওয়ানুল করিমের উপর সন্ত্রাসী হামলায় কর্মরত সাংবাদিকদের বিবৃতি প্রেস বিজ্ঞপ্তি: যুব রেড ক্রিসেন্ট পেকুয়া উপজেলার কমিটি অনুমোদন পেকুয়ায় ইসলামি ব্যাংকের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত রাজাখালী ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি রিয়াজ খান রাজুর মুক্তির দাবীতে মানববন্ধন

চলার পথ মসৃণ ছিল না

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ মার্চ, ২০২২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সমাজ অত্যন্ত সংকীর্ণ। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন এবং যে রাষ্ট্র গঠন করলেন সেখানে নারীদের জন্য আলাদা সুযোগ ও আসন রেখেছিলেন। তিনি যেমন নারীদের এগিয়ে রেখেছিলেন, সেখান থেকেই নারীরা এখনো এগিয়ে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ শীর্ষে।

নারী হিসেবে নিজের পথচলার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ আমার পরিবারের সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এবং আমার বোন প্রবাসে থাকায় ভাগ্যক্রমে সেদিন বেঁচে যাই। এরপর থেকে আমার পথচলা মসৃণ ছিল না। আমাকে বহুবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার ওপর গ্রেনেড হামলা, বোমা হামলার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

তবুও আমি থেমে থাকিনি। বাংলাদেশের নারীরা আজ অনেক এগিয়ে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, সংসদের স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পর্যায় থেকে নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে। নারী শুধু নারী নয়। নারীরা মায়ের জাতি।

নারীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত। গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে তাদের চাকরির জন্য সব সুযোগ- সুবিধা রয়েছে। সরকারি চাকরিতে নারীদের সরব অংশগ্রহণ রয়েছে। আমার পিতা সেই সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। আমার পিতা আমার অনুপ্রেরণা। এখন নারীরা শুধু ঘরবন্দি না, পুলিশ, সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে নারীদের সমান অংশগ্রহণ রয়েছে। নারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রয়েছে। আমরা সব জায়গায় কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছি।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দুবাই এক্সপোতে আয়োজিত ‘রিডিফাইনিং দ্যা ফিউচার ফর উইমেন’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দুবাই এক্সিবিশন সেন্টারের সাউথ হলে এ আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল ওমেনস ডে ফোরাম: ব্রেক দ্যা বিচ।

দুবাইয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন পারসন ওমর বুট্টির সঞ্চালনায় বিষয়ভিত্তিক আলোচনার এই সেশনে অংশ নেন ইউএনএফপিএ’র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. নাটালিয়া কানেম। এ ছাড়াও ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য রাখেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতির কূটনৈতিক উপদেষ্টা ড. আনোয়ার গারগাশ এবং ওমেন টেনিস এসোসিয়েশনের (ডব্লিউটিও) ডিরেক্টর জেনারেল ড. গোজি আকুঞ্জ-ওয়ালা।

আলোচনার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মুখপাত্র মিসেস ইভন এনডেগে। এরপর নারী দিবস উপলক্ষে দুবাই এক্সপোতে অবস্থিত ওমেনস প্যাভিলিয়ন নিয়ে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। আলোচ্য বিষয় নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রিম আল হাশিমি ও কারটিয়ার ইন্টারন্যাশনালের সিইও অ্যান্ড প্রেসিডেন্ট সিরিল ভিগনারন। এ সময় নারী দিবস নিয়ে জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল আমিনা মোহাম্মদ ও সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান লিন্ডের ভিডিও বার্তা প্রদর্শন করা হয়।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই আলোচনায় প্রগতিশীল নেতারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সমন্বিত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও লিঙ্গ বৈষম্য মোকাবিলায় নীতিনির্ধারক ও বিশ্ব নেতারা কী ধরনের ভূমিকা রাখবে তার উপরেও গুরুত্বারোপ করা হয়। নারীরা এখনো অদৃশ্য বাধার সম্মুখীন উল্লেখ করে তাদের কর্মস্থল ও দৈনন্দিন জীবনে নানান বৈষম্য দূরীকরণে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গ্রহণকৃত দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলেন আলোচকরা।

এরপর গেস্ট স্পিকারদের অংশগ্রহণে ভার্চ্যুয়াল স্পটলাইট টক ও অংশগ্রহণকারীদের পরিবর্তনের অঙ্গীকারের শপথ বাক্য পাঠের মধ্যদিয়ে শেষ হয় প্রথম সেশন। আলোচনা শেষে এক্সপো-২০২০ এর ইউএই প্যাভিলিয়ন ও সাস্টেইনেবিলিটি জোনে অবস্থিত বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়কমন্ত্রী ইমরান আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলে ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনসহ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।

সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সময়: পারস্পরিক সর্বোচ্চ সুবিধার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। অন্যদিকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নিরাপদে ফিরে যাওয়া এবং তাদের মঙ্গলের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আমিরাতের অনলাইন খালিজ টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশের সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পত্রিকাটিকে দেয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক, জলবায়ু পরিবর্তন, দক্ষ জনশক্তি, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ সহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নিরাপদে ঘরে ফেরা, অবাধে চলাচল, মৌলিক সেবা এবং জীবিকার বিষয়ে রাজি হয়েছিল মিয়ানমার। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় হতাশার কারণে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় এই ইস্যুটিতে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের দ্বারস্থ হয়েছে। যোগাযোগ করা হয়েছে চীনের সঙ্গে। তাদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিয়ে ত্রিপক্ষীয় কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু গত বছর ১লা ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে এই প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারটির চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: আপনার ২০২১ ভিশনের অধীনে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) ক্যাটাগরি থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় গ্রাজুয়েশন অনুমোদন করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। এই অর্জনের ক্ষেত্রে কি কি বড় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে?
উত্তর: ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এলডিসি গ্রুপ থেকে গ্রাজুয়েশনের চূড়ান্ত সুপারিশ পায় বাংলাদেশ। আমাদের এই গ্রাজুয়েশন যাতে মসৃণ এবং টেকসই হয় এর জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি প্রস্তুতি ছিল। সুস্থ অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর বাংলাদেশের এই অর্জন অর্জিত হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখানো আধুনিক গণতন্ত্র সহ মানবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে আমার সরকার। আমার জনগণকে দারিদ্র্য থেকে তুলে আনার জন্য খুব বেশি বিনিয়োগ করেছি। তাদেরকে দেশের উন্নয়নের এই যাত্রায় সঙ্গী করতে এর মধ্যদিয়ে ক্ষমতায়িত করা হয়েছে। ভিশন-২০২১, ভিশন-২০৪১, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, ডেল্টা প্ল্যান ২১০০, মুজিব ক্লাইমেট প্রোসপারিটি প্ল্যান এবং আরও অনেক আদর্শ পলিসি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছি।

প্রশ্ন: করোনা মহামারি পরবর্তী বিশ্বে উন্নয়ন এবং মূল বিষয়গুলোতে আপনার রোডম্যাপ কি হবে?
উত্তর: সামনের দিনগুলোতে আমাদের মূল কাজ হবে অর্থনীতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে লড়াই করা। আমরা যেহেতু এজেন্ডা: ২০৩০-এর দিকে দৃষ্টি দিয়েছি, তাই আমাদের মূলনীতি হবে টেকসই উন্নয়ন: সবার অংশগ্রহণ এবং কেউ থাকবে না পিছিয়ে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে- দেশের ভেতরে একটি টেকসই ও স্থিতিস্থাপক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা। জনগণের সবাইকে পূর্ণাঙ্গ টিকা নিশ্চিত করা। একটি কার্যকর টিকা কেনা সরবরাহ লাইন কার্যকর করা। দেশের ভেতর কোভিড-১৯ এর টিকার সম্ভাব্য উৎপাদন বা প্রস্তুতকরণ। আমাদের চিত্তাকর্ষক জিডিপি’র গতি ফিরিয়ে আনা। এয়ারওয়েজ ইন্ডাস্ট্রি/ হোটেল/পর্যটন/সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি পুনরুজ্জীবিত করা। নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে আইসিটি খাতকে শক্তিশালী করা। ২০৩০ নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা সময়মতো ডেলিভারি দেয়া এবং সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক এবং ঝুঁকিতে থাকা জনগণকে, এবং মধ্যবিত্তদের বিশেষ যত্ন নেয়া নিশ্চিত করা। এই শ্রেণিগুলো করোনা মহামারির সময়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে ছিল এবং এখনো ভুগছে।

প্রশ্ন: এলডিসিতে উন্নীত করার ফলে যখন বাণিজ্যিক সুবিধা প্রত্যাহার করা হবে, তার ক্ষতি মোকাবিলায় কীভাবে প্রস্তুত আপনার দেশ?
উত্তর: গ্রাজুয়েশন একই সঙ্গে আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা নিয়ে আসবে। সর্ব প্রথম গ্রাজুয়েশনের ফলে বিশ্বে আমাদের মর্যাদা বাড়বে এবং তাতে আমাদের দেশকে ব্রান্ডিং প্রচারণায় সহায়ক হবে। তখন দেশে উন্নত ব্যবসা পরিবেশ উচ্চ হারে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ করবে এবং তাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। গ্রাজুয়েশন এবং শক্তিশালী আর্থিক সূচকের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক সুদ হারে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বাণিজ্যিক ঋণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ আসবে। বর্তমানে বাংলাদেশে বেশকিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- পদ্মা ব্রিজ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলি টানেল, পায়রাবন্দর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টার্মিনাল-৩ প্রভৃতি সহসাই শেষ হয়ে যাবে। এসব প্রকল্প সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা অনেক বেশি বেড়ে যাবে। ফলে এলডিসি থেকে গ্রাজুয়েশন অর্জনের ফলে যেসব চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে তা তেমন ক্ষতিকর ফল সৃষ্টি করবে না। গ্রাজুয়েশন অর্জনের পর এলডিসি-স্পেসিফিক ইন্টারন্যাশনাল সাপোর্ট মেজার্স (আইএসএম) প্রত্যাহার হওয়ার ফলে বাংলাদেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, এটা সত্য। বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্য সম্পর্কিত আইএসএম হলো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে শুল্কমুক্ত এবং কোটামুক্ত (ডিএফকিউএফ) মার্কেট সুবিধা। কিন্তু এলডিসি মর্যাদা থেকে গ্রাজুয়েশনের পরে ডিএফকিউএফ সুবিধার জন্য আর বৈধতা থাকবে না বাংলাদেশের।

এলডিসি গ্রাজুয়েশনের ফলে স্বল্প মেয়াদে যেসব চাপ আসবে তা মোকাবিলার জন্য বেশ ভালোভাবে প্রস্তুত বাংলাদেশের অর্থনীতি। আপনি অবহিত আছেন যে, তৈরি পোশাক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানিতে শীর্ষ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্পের স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শিত হয়, তাতে বাংলাদেশ কোনো সুবিধাজনক সাপোর্ট পাক বা না পাক।

প্রশ্ন: ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিবর্তনে আপনার দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল কৌশল কি?
উত্তর: ভিশন-২০৪১ এর লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীত করা। কৃষি নির্ভরতার দেশ থেকে পরিবর্তিত হয়ে অধিক পরিমাণে কারখানাভিত্তিক দেশে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের অর্থনীতি। তৈরি পোশাক ছাড়াও বাংলাদেশ রপ্তানি করছে ইলেকট্রনিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, প্রক্রিয়াজাত করা কৃষিপণ্য, চামড়াজাত পণ্য। অনলাইনে বিশ্বের কর্মশক্তির দ্বিতীয় বৃহৎ আমরা।

পর্যায়ক্রমে আমাদের অর্থনীতিকে রপ্তানিমুখিতায় পরিবর্তন করে দিচ্ছি। তা করতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ অর্থনৈতিক জোন স্থাপন প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। এর উদ্দেশ্য শিল্পের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা। এরই মধ্যে আমরা জাপান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, কানাডা, কোরিয়া, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগ পেয়েছি। এর প্রেক্ষিতে আমাদের কৌশল হলো দেশকে একটি আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। এক্ষেত্রে ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে। এর জন্য আমরা কয়েক ডজন ট্রান্সফরমেশনাল মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। যেমন পদ্মা সেতু, গভীর সমুদ্রবন্দর, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেল লিংক, বিমানবন্দর, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, চার লেনের মহাসড়ক ইত্যাদি। আমি আশা করি, শিগগিরই আমাদের অর্থনীতি দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয়েই তাদের সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্‌যাপন করছে। কীভাবে এই দুই দেশের মধ্যে অতীতের বছরগুলোতে এই সম্পর্ক গড়ে উঠলো এবং আপনার এই সফরের এজেন্ডা কি, ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গিই বা কি?

উত্তর: একই বছর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা সুসংহত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সফরের মধ্য দিয়ে। তিনি ১৯৭৪ সালে ঐতিহাসিক সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান ১৯৮৪ সালে ১০ দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ সেই সফরের কথা স্মরণ করেন। এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উঠে যায়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বছরে ১৫০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে পঞ্চম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী সংযুক্ত আরব আমিরাত। বাংলাদেশে তারা বিনিয়োগ করেছে প্রায় ২৫০ কোটি ডলার। আমাদের উভয় দেশের জাতিসত্তার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্‌যাপনের প্রাক্কালে, এখন আমাদের সম্পর্ককে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার উত্তম সময়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শতবর্ষী ভিশন-২০৭১ এবং পরবর্তী ৫০ বছরের উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত। আমাদেরও আছে ভিশন-২০৪১ এবং ডেল্টা প্ল্যান ২১০০।

উল্লিখিত উন্নয়ন টার্গেট ও দৃষ্টিভঙ্গিকে আমলে নিয়ে ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে উদগ্রীব বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হবে উভয় দেশ একে অন্যকে উচ্চ মাত্রায় সুবিধা দিয়ে সর্বোচ্চ পারস্পরিক সুবিধা অর্জন।

মানবসম্পদ উন্নয়ন, ফিজিক্যাল অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিল্প-কারখানা এবং সার্ভিস সেক্টরে আমাদের প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ। টানেল, ব্রিজ ও অন্যান্য যোগাযোগ বিষয়ক নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, এগ্রো-ফুড প্রসেসিং, পর্যটন, ব্লু ইকোনমি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবন, কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য কার্যকর খাতে অধিক হারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রতিটি স্টেজে সংযুক্ত থাকার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অবদান রাখতে প্রস্তুত আমরা। উৎপাদন থেকে শুরু করে শিপমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ সরবরাহ চেইনে আমরা অবদান রাখতে চাই। তৃতীয় দেশে আমিরাতের লিজড ফার্মে দক্ষ কৃষক সরবরাহ দিয়ে এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত আমরা। এই সফরের সময়ে বাণিজ্য বিষয়ক দুটি সংগঠন (এফবিসিসিআই এবং ইউএই সিসিআই) একত্রিত হয়ে জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল (জেবিসি) হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। এতে থাকবেন উভয় পক্ষের সেক্টর-ভিত্তিক ব্যবসায়ী নেতারা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্ম বাজারে প্রস্তাব করার জন্য আমাদের অনেক কিছু আছে। আমাদের কর্মশক্তিকে দক্ষ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কেটভিত্তিক প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সমর্থনকে স্বাগত জানাই আমরা।

নিউজটি শেয়ার করুন........

© All rights reserved © 2020 Pekuanews24.com