

পেকুয়া প্রতিনিধি:- মোঃ আজিজুল হক
পেকুয়ায় দিন দিন বেড়ে চলেছে ফেইক আইডির দাপট। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর অপপ্রচার অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবি মানুষ। এসব অপপ্রচার থেকে রেহাই পাচ্ছেনা নারীরাও। গত কয়েক দিনের এমন অপপ্রচারে ফুঁসে উঠেছে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
ফলে সেগুনবাগিচা ও জারুলবনিয়া দুই গ্রামবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমনি ঘটনা ঘটেছে পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবনিয়া এলাকায়। সেগুনবাগিচা এলাকার মোঃ আব্দুল্লাহ ও আসিফ নামক দুই যুবক পৃথক ফেইক আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন জনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে অভিযোগ তুলেছেন একটি পক্ষ। আবার কেউ কেউ সাকিব ও শফিউল আলম সাওদাগর নামের দুই জনের বিরুদ্ধে একইভাবে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন। এটির স্থায়ী সমাধান চায় এলাকাবাসী।
এদিকে এনিয়ে ওই এলাকায় সংর্ষের আশংকা বিদ্যমান থাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয় শিলখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল হোছাইন ও পেকুয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম দিদারুল করিম। বুধবার বিকেলে শিলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হল রুমে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে দুপক্ষের লোকজন নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্যদিয়ে প্রায় ৪ ঘন্টার বৈঠক শেষে দু’পক্ষের ভূল বুঝাবুঝির অবসান হয়। পূর্বের ঘটে যাওয়া ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সে বিষয়ে বৈঠকে অভিযুক্তদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে । তবে ফেইক আইডি সনাক্ত ও দোষীদের চিহ্নিত করতে আইনি সহায়তা চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সালিশকারকরা।
মোঃ আব্দুল্লাহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, সম্প্রতি কে বা কারা কয়েকটি ফেইক আইডি খোলে নানা ধরনের অশালীন ভাষায় লেখালেখি করছে। আমি হলফ করে বলছি এর সাথে আমি সম্পৃক্ত নই। একটি প্রভাবশালী মহল এর দায় চাপিয়ে দিচ্ছে আমার উপর। এর জের ধরে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে জারুলবনিয়া স্টেশনে সাকিব নামে এক ছেলের সাথে ভূল বুঝাবুঝি হয়। সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে আমাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন গালমন্দ করেন। কিছু লোক তাঁর পক্ষ হয়ে আমাকে হেনেস্তা করার চেষ্টাও করে। ফেইক আইডি ব্যবহারকারী অবশ্যই অপরাধী। আর অপরাধীর শাস্তি হওয়া উচিত তা আমিও চাই।
অপরদিকে সাকিব জানান, গত কয়েকদিন ধরে একটি ফেইক আইডি থেকে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে নানান ধরনের খারাপ মন্তব্য করে যাচ্ছে। এমনকি আমার প্রয়াত বাবাকে নিয়েও লেখালেখি করছে। এটা খুবই দুঃখজনক। যাহা মোটেও উচিৎ নয়। আমি তখন থেকে এর সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবী করে আসছি।
ওইদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন
স্থানীয়দের ইউপি সদস্য আহমদ শফি, মৌলানা মো.আবদুল্লাহ, জারুলবনিয়া স্টেশন কমিটির সভাপতি সৈয়দ হোছাইন, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, শিক্ষানবিশ আইনজীবী রোকন উদ্দিন, দেলোয়ার হোছাইন, নাঈম উদ্দিন, পল্লী চিকিৎসক আব্দুল জব্বার, এনজিও কর্মী নিজামুদ্দিন, শফিউল আলম সাওদাগরসহ অনেকে। শিলখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল হোছাইন বলেন, কয়দিন ধরে আমার ইউনিয়নের জারুলবনিয়া এলাকায় ফেসবুকে মানহানিকর অপপ্রচার নিয়ে স্থানীয় কিছু যুবকদের মধ্যে বাকবিতন্ডা চলছে। এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংঘাত এড়াতে সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের ব্যাক্তিবর্গদের নিয়ে সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে উদ্যোগ নিয়েছি। উপস্থিত সকলের সহযোগিতায় এটি সমাধান হয়েছে। পরবর্তী যদি কোন পক্ষ এটি নিয়ে ভাড়াভাড়ি করলে আমরা কাউকে ছাড় দেবনা। ফেসবুকে লেখনীর মাধ্যমে কাদা ছুটাছুটি বন্ধ না হলে ফেইক আইডির বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেয়া হবে।